Posts

ধর্মগ্রন্থগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ঠিকমত কাজ করতে পারছেনাঃ-

Image
  ধর্মগ্রন্থগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ঠিকমত কাজ করতে পারছেনাঃ- সাধারণত ধরে নেওয়া হয় পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোর চর্চা হয় ধর্মপ্রতিষ্ঠানে । বাসা বাড়িতে অবশ্যই হয় । তবে ব্যাপকভিত্তিক চর্চা হয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে । সেটাই হওয়া উচিত । ধর্ম শব্দটির একটি অর্থ , আমাদের মত সাধারণ মানুষের কাছে সত্য বলে পরিগনিত হয় । আমরা ধরে নেই ধর্ম অর্থ সত্য , ধর্ম অর্থ নীতি , ধর্ম অর্থ অন্যকে সন্মান করা ও ভালোবাসা । আসলেই কি এগুলো ঐ সমস্ত ধর্মপ্রতিষ্ঠানে চর্চা হচ্ছে ? আসলেই কি তাই ? সত্য এটাই , বর্তমানে বেশীর ভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলো দুর্ণীতির আখরা । কমিটি তৈরী থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা . উন্নয়ন , এমন কি প্রসাদ তৈরী করতে যে বাজার করতে হয় সেখানে দুর্ণীতি , প্রসাদ বিতরণে দুর্ণীতি । এরকমও শোনা যায় . ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের টাকা সাময়িক উত্তলোন করে ব্যাক্তিগত ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা হয় । যারা একবার কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হোন ,তারা আর নামতে চাননা । কমিটির অন্যান্য পদ ও সামান্য সদস্য হওয়ার জন্য কত রকম তদবির , এমনকি রাজনৈতিক দল থেকেও প্রভাব বিস্তার করা হয় । তারউপর আঞ্চলিক ব্যাপার তো আছেই । আমি এরকম ও দেখ...

অন্যধর্মের মানুষ সনাতন মন্দিরে প্রবেশ প্রসংগেঃ-

  অন্যধর্মের মানুষ সনাতন মন্দিরে প্রবেশ প্রসংগেঃ- ‘ঈশ্বর থাকেন ওই ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।’ উপরের এই উক্তিটি খুব বেশী পুরাতন নয় । ১৯৩০/৪০ সালের ঘটনা । তখনও মানুষ বিশ্বাস করতো ভগবান থাকেন বড়লোক তথা উচ্চশ্রেনীর কাছে । গরীব মানুষদের কেউ নেই । মন্দিরে তো গরীব মানুষ বা সমাজের নীচু শ্রেনীর মানুষ প্রবেশ করতেই পারতনা। সেই জায়গা থেকে বর্তমান জায়গায় আসতে অনেক অনেক কাঠখড়ি পোড়াতে হয়েছে । অনেক লোককে অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে , এই ভগবানকে সাধারনের মধ্যে বিলিয়ে দিতে এবং মন্দির যে সবার তা বোঝাতে। এখনও কিছু কিছু মন্দির কঠোর নিয়ম কানুনের মধ্যে আবদ্ধ । বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি হওয়া উচিত জনমুখী । জনগণই তো ভগবান । জনতা জনার্দন । সব ধর্মের মানুষ আসুক না , সমস্যা কোথায়? এই যে আমরা বৌদ্ধ মন্দিরে যাই , কৈ সেখানেতো আমাদের বাধা দেওয়া হয়না , আমরা তো চার্চেও যাই , কৈ সেখানেতো আমাদের বলা হয়না , আপনি এখানে প্রবেশ করতে পারবেন না । তবে হ্যাঁ তারা কিছু নিয়ম কানুনের ব্যবস্থা করেছে , যার কারনে আপনি মুল মন্দিরে বা প্রার্থনালয়ে প্রবেশ করলে , তাদের মত করে চলতে বা বলতে হবে। এইটাই স্বাভাবিক...

অসুর

  অসুর শব্দটিকে আমরা সাধারনত খারাপ অর্থে ব্যবহার করি । তবে উৎপত্তিগত দিক থেকে অসুর শব্দটি খুব খারাপ নয়। আসলে অহুর শব্দটি থেকে অসুর শব্দটির উৎপত্তি । অহুর (ইংরেজি: Ahura) হল একটি আবেস্তীয় ভাষার শব্দ যা এক বিশেষ শ্রেণীর জরথুস্ট্রবাদী দৈবসত্ত্বাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। উচ্চারণ গত সমস্যার কারণে অহুর শব্দটি সিন্ধু নদীর তীরে এসে হয়ে যায় অসুর । যেমন সিন্ধু হয়ে গিয়েছিলো হিন্দু । আবার অসুর একজন পূর্ব সেমিটিক দেবতা, এবং মেসোপটেমীয় ধর্মের অ্যাসিরীয় মধ্যে প্রধান। ইনি প্রধানত মেসোপটেমিয়ার উত্তরের অর্ধেক এবং উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কিছু অংশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া মাইনর অঞ্চলে পূজিত হতেন। মূলত এসব অঞ্চল নিয়ে প্রাচীন আসিরীয় অঞ্চল গঠিত হয়েছিলো।কিছু পণ্ডিত দাবি করেন যে, আশারীয় আইকনোগ্রাফীতে বারবার যে পাখাওয়ালা সূর্য দেবতার কথা বলা হয়েছে তিনি মূলত অসুর। অনেক আশারীয় রাজা নিজেদের নামের সংগে অসুর নাম গ্রহণ করেছেন। যেমন আসুর উবাল্লিত ১, আসুরনাসিরপাল, আসুর আহা ইদ্দিনা এবং আসুরবানিপাল। আমাদের ভারতবর্ষেও অসুর পদবী অনেকে ধারণ করেছিলেন । যেমন আসামের নারকাসুর । ভারতীয় পাণ্ডুলিপিতে অসুরদেরকে শক্তিশালী অত...

ওঁ - তৎ- সৎ

  ওঁ - তৎ- সৎ ব্রক্ষ্ম - জীব - জগত বেদ - বেদজ্ঞ - যজ্ঞ ওঁ-ই সৃষ্টির আদি শব্দ।মহাবিশ্বের মহাবিস্ফোরণ এর মাধ্যমে সৃষ্টি ওঁ। নির্গুণ-নিস্ক্রিয় ব্রহ্মের এ সক্রিয় ভাব। গুরুদেব রবি ঠাকুর বলছেন - প্রাচীন ভারতে ব্রহ্মের কোন প্রতিমা ছিল না, কোন চিহ্ন ছিল না— কেবল এই একটিমাত্র ক্ষুদ্র অথচ সুবৃহৎ ধ্বনি ছিল ওঁ। এই ধ্বনির সহায়ে ঋষিগণ উপাসনানিশিত আত্মাকে একাগ্রগামী শরের ন্যায় ব্রহ্মের মধ্যে নিমগ্ন করিয়া দিতেন। আধুনিক সমস্ত ভারতবর্ষীয় আর্য্য ভাষায় যেখানে আমরা হাঁ বলিয়া থাকি প্রাচীন সংস্কৃতভাষায় সেইখানে ওঁ শব্দের প্রয়োগ। হাঁ শব্দ ওঁ শব্দেরই রূপান্তর বলিয়া সহজেই অনুমিত হয়। উপনিষদ্‌ও বলিতেছেন ওমিত্যেতদ্‌ অনুকৃতির্হ স্ম— ওঁ শব্দ অনুকৃতিবাচক, অর্থাৎ ‘ইহা করো’ বলিলে, ওঁ অর্থাৎ হাঁ বলিয়া সেই আদেশের অনুকরণ করা হইয়া থাকে। ওঁ স্বীকারোক্তি। এই স্বীকারোক্তি ওঁ, ব্রহ্ম-নির্দ্দেশক শব্দরূপে গণ্য হইয়াছে। ব্রহ্মধ্যানের কেবল এইটুকুমাত্র অবলম্বন— ওঁ, তিনি হাঁ। ইংরাজ মনীষী কার্লাইলও তাঁহাকে Everlasting Yea অর্থাৎ শাশ্বত ওঁ বলিয়াছেন। এমন প্রবল পরিপূর্ণ কথা আর কিছুই নাই, তিনি হাঁ, ব্রহ্ম ওঁ।... উপনিষদের ঋষিগণ বলিলেন জ...

বারুণী স্নান কি এবং কেন ?

  বারুণী স্নান কি এবং কেন ? ================ প্রথমেই দুজন বিখ্যাত মহামানবের দুটি পংতি স্মরণে রাখি । সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই - চণ্ডীদাস । মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান...- নজরুল । ভারতবর্ষের বর্তমান প্রধান নদী গঙ্গা । প্রথম দিকে কিন্তু গঙ্গার এত পরিচিতি ছিলোনা । কয়েক হাজার বছর পূর্বে যে দুটি নদী ও নদের নাম বেশী উচ্চারিত হতো তা হলো সরস্বতী ও সিন্দু নদ । কিন্তু কালের প্রভাবে গঙ্গা হয়ে গেলো ভারতবর্ষে শ্রেষ্ঠ নদী । গঙ্গার দৈর্ঘ্য ২,৫২৫ কিমি (১,৫৬৯ মা); উৎসস্থল পশ্চিম হিমালয়ে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে। দক্ষিণ ও পূর্বে গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গা মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। জলপ্রবাহের ক্ষমতা অনুযায়ী গঙ্গা বিশ্বের প্রথম ২০টি নদীর একটি। গাঙ্গেয় অববাহিকার জনসংখ্যা ৪০ কোটি এবং জনঘনত্ব ১,০০০ জন/বর্গমাইল (৩৯০ /কিমি২)। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নদী অববাহিকা। গঙ্গা নদীর উৎপত্তি নিয়ে সনাতন ধর্মে সুন্দর পৌরাণিক কাহিনী আছে । কাহিনীটা নিম্নরুপ গঙ্গার জন্মকাহিনি বিষয়ে হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলির মধ্যে মতদ্বৈধ দৃষ্ট হয়। একটি কাহিনি অনুযায়ী ব্রহ্মার কমণ্ডলু...

ব্রাক্ষ্মন্যবাদ ও বাংলাদেশের সনাতন সমাজ

  ব্রাক্ষ্মন্যবাদ ও বাংলাদেশের সনাতন সমাজ ঃ ---------------------------------------------------- সনাতন ধর্ম পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন ধর্ম গুলোর মধ্যে একটি। সম সাময়িক অনেক ধর্ম বিলীন হয়ে গেছে।সনাতন ধর্ম এখনো মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে বিরাজ মান। অতীত খুঁজলে দেখা যায় , ভারত বর্ষে আর্যরা আসার পূর্বেও সনাতন ধর্ম বিরাজমান ছিল। কৌম সভ্যতায় আমরা দেখেছি কিছু সংস্কার , আচার আচরণ ,যা এখনো সনাতন ধর্মের বিশ্বাসী মানুষেরা বহণ করে নিচ্ছে।যেমন মেয়েরা যে মাথায় সিঁদুর দেয় তা কিন্তু কৌম সভ্যতা থেকে এসেছে। আবার হরোপ্পা সভ্যতায় আমরা দেখতে পাই সেখানে হর নামে এক দেব ছিল যাকে আমরা শিব বলে থাকি। সেখানে মাতৃকা দেবীর পূজা হতো। তবে যেহেতু আর্যরা তাদের জাতির নাম পূর্ব থেকে নির্ধারিত করে ফেলেছিল , তাই তারা বাদে বাকী লোক গুলোকে অনার্য বলা হত। তখন সামজে বিভিন্ন গোষ্ঠী থাকত এবং গোষ্ঠী নেতা থাকত তবে শ্রেনী বৈষম্য হয়ত তেমন প্রখর ছিলনা । চারবর্নের সৃষ্টি হলো আর্যদের বহন করা বেদ থেকে। যে , যে ভাবে ব্যাখ্যা করুন শ্রী গীতাতেও বর্ণবাদকে পরোক্ষ ভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। এই বর্ণ বাদে একদল হয়ে গেল উচ্চ বর্ণ আর এক দল হয়ে গেল ...

ঈশ্বর ও দেবতাঃ

  ঈশ্বর ও দেবতাঃ ========== ছান্দোগ্য উপনিষদে (৩:১৪:১) এর সারমর্ম সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যক্ত হয়েছে – ‘সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম তজ্জ্বলানিতি’ অর্থাৎ জগত ব্রহ্মময় । সব কিছুই ব্রহ্ম, ব্রহ্মেই তাদের জন্ম, পুষ্টি এবং প্রলয়। শিবপুরাণ জ্ঞানসংহিতা ৬৭ নং শ্লোক ”সর্ব্বং শিবমর্য়ং ব্রহ্ম শিবাং পরং ন কিঞ্চন । “ আমিই শিব আবার শিবও আমি , এবং তুমিও শিব ।” শিবময় ব্রহ্ম ” । এ জগতে শিব ব্যাতিত আর কিছুই নেই । শ্রী গীতাঃ৭/১৯ বহুনাং জন্মনামন্তে জ্ঞানবান্মং প্রপদ্যতে। বাসুদেবঃ সর্বমিতি স মহাত্মা সুদুর্লভঃ।।১৯।। অনুবাদঃ বহু জন্মের পর তত্ত্বজ্ঞানী ব্যক্তি আমাকে সর্ব কারণের পরম কারণ রূপে জেনে আমার শরণাগত হন। জগত বিষ্ণুময় । শাক্তধর্মমতে, দেবী হলেন পরব্রহ্ম। তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। অন্য সকল দেব ও দেবী তার রূপভেদমাত্র। দর্শন ও ধর্মানুশীলনের ক্ষেত্রে শাক্তধর্মের সঙ্গে শৈবধর্মের সাদৃশ্য লক্ষিত হয়। যদিও শাক্তরা কেবলমাত্র ব্রহ্মের শক্তিস্বরূপিণী নারীমূর্তিরই পূজা করে থাকেন। এই ধর্মে ব্রহ্মের পুরুষ রূপটি হল শিব। তবে তার স্থান শক্তির পরে এবং তার পূজা সাধারণত সহায়ক অনুষ্ঠান রূপে পালিত হয়ে থাকে। প্রধান শাক্ত ধর্মগ্রন্থ দে...