ধর্মগ্রন্থগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ঠিকমত কাজ করতে পারছেনাঃ-
ধর্মগ্রন্থগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ঠিকমত কাজ করতে পারছেনাঃ-
সাধারণত ধরে নেওয়া হয় পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোর চর্চা হয় ধর্মপ্রতিষ্ঠানে । বাসা বাড়িতে অবশ্যই হয় । তবে ব্যাপকভিত্তিক চর্চা হয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে । সেটাই হওয়া উচিত । ধর্ম শব্দটির একটি অর্থ , আমাদের মত সাধারণ মানুষের কাছে সত্য বলে পরিগনিত হয় । আমরা ধরে নেই ধর্ম অর্থ সত্য , ধর্ম অর্থ নীতি , ধর্ম অর্থ অন্যকে সন্মান করা ও ভালোবাসা । আসলেই কি এগুলো ঐ সমস্ত ধর্মপ্রতিষ্ঠানে চর্চা হচ্ছে ?
আসলেই কি তাই ? সত্য এটাই , বর্তমানে বেশীর ভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলো দুর্ণীতির আখরা । কমিটি তৈরী থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা . উন্নয়ন , এমন কি প্রসাদ তৈরী করতে যে বাজার করতে হয় সেখানে দুর্ণীতি , প্রসাদ বিতরণে দুর্ণীতি । এরকমও শোনা যায় . ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের টাকা সাময়িক উত্তলোন করে ব্যাক্তিগত ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা হয় । যারা একবার কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হোন ,তারা আর নামতে চাননা । কমিটির অন্যান্য পদ ও সামান্য সদস্য হওয়ার জন্য কত রকম তদবির , এমনকি রাজনৈতিক দল থেকেও প্রভাব বিস্তার করা হয় । তারউপর আঞ্চলিক ব্যাপার তো আছেই । আমি এরকম ও দেখেছি , সাময়িক টাকার জন্য , মন্দিরের পেছনে , সাইডে , সামনে দোকান বসিয়ে দিয়েছে । চিন্তা করেনি ভবিষ্যতে কি হবে। তারপর সেটা বেহাত হয়ে গেছে । আমও গেছে , ছালাও গেছে । অথচ ধর্মগ্রন্থ বলছে ,লোভ করিওনা । এখন সেখানে যদি অন্য ধর্মের মানুষ হয় , তবে তো কথায় নেই , রং লাগিয়ে দেবো , আমার ধর্ম প্রতিষ্ঠান অন্য ধর্মের মানুষ দ্বারা আক্রান্ত । কিন্তু তুমি কেনো লোভ করেছিলে , সেটা তো বলছোনা ?
তার অর্থ দাঁড়ালো ধর্মগ্রন্থ গুলো যে অর্থে ব্যবহার হওয়ার কথা , হচ্ছে তাঁর উল্টো । আমি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পড়ছি । সেখানে এক জায়গায় লেখা আছে , আমি সৃষ্টি , আমি ধ্বংস । আমরা প্রথম টা না পড়ে পরেরটা পড়ছি , সৃষ্টিকর্তা বলেছেন আমি ধ্বংস। সৃষ্টিকর্তা বারে বারে বলছেন , আমি সুন্দর , আমি সত্য । সেটা না পড়ে আমি পড়ছি , সৃষ্টিকর্তা বলেছেন , আমি চালাকের শিরোমণি । আমিই শ্রেষ্ঠ কুটনীতিবিদ । এই শব্দটা নিয়ে আমার ধর্ম , সমাজনীতি , রাজনীতি , এমন কি রাষ্টনীতিতে ব্যবহার করছি । কিন্তু সৃষ্টিকর্তা কি কারণে , এই কথাটি বলেছেন , সেটা মুখ্য বিষয় আর থাকছে না ।
ধর্ম বলছে , যুদ্ধ কর । আমরা যুদ্ধ করছি । টিকে থাকার যুদ্ধ । সেটা ন্যায় না অন্যায় সেটা দেখছিনা । যুদ্ধ করতে বলেছে । যুদ্ধ করতে হবে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তাতো বলেছেন , আমাকে স্মরণ করে যুদ্ধ কর। কারণ আমি সৎ তথা ভালোর প্রতীক । তুমি আমাকে স্মরণ করে যুদ্ধ করলে খারাপ কাজ করতে পারবেনা । সেটা আমরা বেমালুল ভুলে গেছি । আর সেই কারণে অনেক পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রথমেই বলা হয়েছে , পড় পড় পড় তোমার প্রভুর উদ্দেশ্যে । আমরা পড়ছি , কিন্তু প্রভুকে বাদ দিয়ে ।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সনাতন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানএর জায়গা যতটা না দখল করেছে প্রতিবেশী ধর্মের মানুষেরা , তার চেয়ে অনেক অনেক বেশী গ্রাস করেছে নিজধর্মের মানুষেরা । যেখানেই দেখবেন দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে গন্ডোগোল লেগেছে , সেখানে যদি আপনি ঘটনার মুলে প্রবেশ করনে তবে দেখবেন কতগুলো স্বার্থপর মানুষের ভোগদখলের খেলা । যেখানে আমার ধর্মের মানুষও জড়িত ।
আপনি বলবেন , একথাগুলো আমরা খোলাবাজারে বলছি কেনো ? আপনি না বললেও কিছু চালাক মানুষ আপনাকে দিয়ে বলাবে। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিজেকে পর্যালোচনা করার । আপনাকে অন্যে এসে বাঁচাবেনা । আপনার নিজেকেই আগে ঠিক হতে হবে। ঘটনার ভেতরে ঢুকতে হবে।
কিছুদিন আগে দেখলাম কুমিল্লার বাসার সাহেবকে নিয়ে অনেক কথা । উনি যখন বলে ফেললেন , এখানকার একটি আশ্রমের জায়গা এলাকার কিছু হিন্দু নেতা বিক্রী করতে চেয়েছিলো , আমি বাধা দিয়েছিলাম ।তারপর থেকে ওরা আমার পেছনে লেগে আছে । উনি এই কথা বলার পর আস্তে আস্তে সব কি রকম যেনো থেমে গেলো । তা হলে ঘটনা আংশিক হলেও সত্য । তা না হলে ঐ সব হিন্দু নেতারা উনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলো না কেন ? কিন্তু আমরা তো মিছিল মিটিং করে বাজার গরম করে ফেলেছি । আমি যতখানি জানি বাসার সাহেব নমিনেশনও পেয়েছেন , ইলেকশানও করছেন । তবে কেন এত বাড়াবাড়ি ? কোন পক্ষের লাভ ? আবার মদ খাওয়া নিয়ে উনি যা বলেছেন , আমিতো নিজেই এই অন্যায়ের স্বীকার ? আমার লোক মদ খেয়ে মাতলামো করেছে , প্রশাসন প্রশাসনের কাজ করেছে , কিন্তু পরবর্তীতে দোষ চাপিয়ে দিয়েছে আমার উপর । অনেক বড় বড় হিন্দু নেতারাও আমাকে দোষ দিতে ছাড়েনি যে আমি নাকি ধরিয়ে দিয়েছি। অথচ আমি ঘটনাই জানিনা। আমি অসুস্থ । বাসায় ঘুমিয়ে আছি । তুমি মদ খেয়ে মাতলামি করলা , এটা অন্যায় নয় . তোমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া অন্যায় । ঐযে বললাম , ধর্মগ্রন্থগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ঠিকমত কাজ করতে পারছেনা ।
Comments
Post a Comment