ব্রাক্ষ্মন্যবাদ ও বাংলাদেশের সনাতন সমাজ
ব্রাক্ষ্মন্যবাদ ও বাংলাদেশের সনাতন সমাজ ঃ
----------------------------------------------------
সনাতন ধর্ম পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন ধর্ম গুলোর মধ্যে একটি। সম সাময়িক অনেক ধর্ম বিলীন হয়ে গেছে।সনাতন ধর্ম এখনো মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে বিরাজ মান। অতীত খুঁজলে দেখা যায় , ভারত বর্ষে আর্যরা আসার পূর্বেও সনাতন ধর্ম বিরাজমান ছিল। কৌম সভ্যতায় আমরা দেখেছি কিছু সংস্কার , আচার আচরণ ,যা এখনো সনাতন ধর্মের বিশ্বাসী মানুষেরা বহণ করে নিচ্ছে।যেমন মেয়েরা যে মাথায় সিঁদুর দেয় তা কিন্তু কৌম সভ্যতা থেকে এসেছে। আবার হরোপ্পা সভ্যতায় আমরা দেখতে পাই সেখানে হর নামে এক দেব ছিল যাকে আমরা শিব বলে থাকি। সেখানে মাতৃকা দেবীর পূজা হতো। তবে যেহেতু আর্যরা তাদের জাতির নাম পূর্ব থেকে নির্ধারিত করে ফেলেছিল , তাই তারা বাদে বাকী লোক গুলোকে অনার্য বলা হত। তখন সামজে বিভিন্ন গোষ্ঠী থাকত এবং গোষ্ঠী নেতা থাকত তবে শ্রেনী বৈষম্য হয়ত তেমন প্রখর ছিলনা । চারবর্নের সৃষ্টি হলো আর্যদের বহন করা বেদ থেকে। যে , যে ভাবে ব্যাখ্যা করুন শ্রী গীতাতেও বর্ণবাদকে পরোক্ষ ভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। এই বর্ণ বাদে একদল হয়ে গেল উচ্চ বর্ণ আর এক দল হয়ে গেল নিম্ণ বর্ণ। আবার ঐ সময় বেশী ভাগ ক্ষেত্রেই ব্রাক্ষ্মণ দের আধিপত্য দেখা যেত। শাষণ করার ফলে শোষণ প্রকৃয়াতেও তাদের নাম চলে আসত। আর এই শাসণ ও শোষণ এর নাম হয়ে গেল ব্রাক্ষ্মন্য বাদ। ব্রাক্ষ্মণ আর ব্রাক্ষ্মণ্যবাদ এক নয় , তারপরেও ব্রাক্ষ্মণরাই হয়ে গেল ব্রাক্ষ্মণ্যবাদের ধারক ও বাহক।
সমাজে সব সময় একটা বিরোধী দল থাকবে। আর সে দলটাই হয়ে পড়ল ব্রাক্ষ্মণ্যবাদ বিরোধী। তবে এরা শিক্ষা দীক্ষাই খুব পিছিয়ে ছিল । ফলে তাদের বিরোধীতা খুব একটা জোড় পেতনা। তবে লক্ষ্য করা যায় , দ্বাপর ও ত্রেতা যুগে ক্ষত্রীয়দের একটা প্রভাব।রামচন্দ্র ও শ্রী কৃষ্ণ তার উজ্বল উদাহরণ।
বাংলাদেশে সব সময় তথাকথিত নিম্ণ বর্ণের লোক বেশী । তবে এরা সমাজের মূল শ্রেণীতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারছিলনা। এদের মধ্যে কিছু মানুষ লেখাপড়া শিখে বাস্তবতাটা বুঝতে পেরেছিল , তাই তারা ক্রমান্বয়ে সংগঠিত হতে থাকে । কিন্তু ঐ পর্য্যন্তই। তারা কোন ভাবেই মূলশ্রোতে আসতে পারছেনা।
বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পুর্ণ ভিন্ন। এখন বাংলাদেশে নিম্নবর্ণের লোকের বেশী শিক্ষিত হয়ে অর্থবিত্তেও অনেক এগিয়ে। শিক্ষা , অর্থ , লোক বল সব কিছুতেই এগিয়ে থাকার পরেও তার নেতৃত্বে আসতে পারছেনা কেন ?
বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় হিন্দু সংগঠন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও আর একটি সংগঠন আছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ । তবে এই দুটো সংগঠন একে অপরের পরিপূরক। (বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ - রানা দাশ গুপ্ত = বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।) অন্য সংগঠন গুলি চেষ্ঠা করছে সংগঠিত হয়ে বড় আকারে আত্মপ্রকাশ করার জন্য ।যেমন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজ সংস্কার সমিতি , মহাজোট ইত্যাদী।
আর একটি সংগঠন আছে সেটা হলো অনুভব। সব অবসর প্রাপ্ত সচিব , উপসচিব যাকে বলে তারকা , মহাতারকা , ও অর্থশালী দের সমন্বয়ে গঠিত সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য গঠিত সংগঠন।যাদের ২৫ হাজাররও বেশী সদস্য। কিন্তু এরা রাহুল দেবের মত ডিফেন্স ক্রিকেট খেলছে। আমার ধারণাই মনে হয়েছে এদের মনের জোর কম।
উপরের দুই বড় সংগঠনের মূল নেতৃত্বে উচ্চবর্ণের লোকদের দৌড়াত্ব বেশী লক্ষ করা যায়। এবং এদের যে গঠন প্রক্রিয়া , আগামী দু্ইযুগ এই সব সংগঠনের নেতৃত্বে উচ্চবর্ণের লোকদের প্রভাব থাকবে। কিন্তু সংখ্যায় , যোগ্যতায় , শিক্ষায় , অর্থে এগিয়ে থাকার পরেও কেন তারা ( নিম্ণবর্ণ ) মূল নেতৃত্বে আসতে পারছেনা ? একে অপরের প্রতি আস্থাহীনতা , হিংসা নাকি উচ্চবর্ণের বুদ্ধির কাছে এরা বারে বারে পরাজিত হচ্ছে ? যতদিন পর্য্যন্ত এই সব সংগঠনের মূল নেতৃত্বে নিম্লবর্ণের লোকেরা আসতে না পারবে , তত দিন পর্য্যন্ত এই সব হিন্দু সংগঠন কোন আন্দোলনেই তৃণমূল হিন্দুদের সংযুক্ত করতে পারবেনা। ফলে যা হবার তাই হবে সংগঠন গুলো কাগজে কলমেই রয়ে যাবে।
Comments
Post a Comment