ভারত

 হিন্দুত্ববাদী ভারতঃ

আজকের ভারত তৈরী হয়েছিলো প্রতিবেশী দেশগুলোর সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের রক্তের বিনিময়ে ।
ইংরেজশাসিত ভারত ত্রিখণ্ডীত ( ভারত , পাকিস্থান , বাংলাদেশ ) হওয়ার পেছনে কোন ভাবেই পাকিস্থান ও বাংলাদেশের তৎকালীন জনগন বা নেতৃত্ব দায়ী ছিলোনা এমন কি পশ্চিম বাংলা ও পূর্ববাংলা হওয়ার পেছনেও তৎকালীন পূর্ববাংলার জনগন বা নেতৃত্বের কোন ভূমিকা ছিলোনা । বরং ভারত , ইংরেজমুক্ত হোক , সেই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশী ভূমিকা ছিলো আজকের বাংলাদেশের তৎকালীন নেতৃত্ব বিশেষ করে এদেশের সনাতন সম্প্রদায়এর মানুষদের এবং ইতিহাস ঘাটলে পাকিস্থানে বসবাসকারী তৎকালীন সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ ও নেতৃত্বের অবদান পাওয়া যাবে। মাষ্টারদা সূর্য সেন , অম্বিকা চক্রবর্তী , প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত , বিনয় , বাদল , দীনেশ , প্রফুল্ল চাকি , মোহনকিশোর নমোদাস, ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী সহ অসংখ্য স্বাধিনতা সংগ্রামীদের নাম বলা যাবে। তাঁরা জীবন দিয়েছিলো অবশ্যই অখণ্ড ভারতের জন্য । কিন্তু ভারতের তৎকালীন নেতৃত্বের ব্যার্থতার কারণে জন্ম হয়েছিলো মুসলিমলীগের । যদিও মুসলীমলীগ প্রথমে সরাসরি রাজনীতি না করে , কি ভাবে মুসলীমদের শিক্ষাদীক্ষায় উন্নতি করা যায় , কি ভাবে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করা যায় , সেই দিকে তাদের মনোযোগ ছিলো বেশী । এখানেও একটা ট্রাজেডি হয়েছে। মুসলীমলীগের জন্ম ঢাকা তথা পূর্ববাংলাতে কিন্তু বেনিফিসিয়ারী হয়েছে পাকিস্থান । যদিও আজকে আমরা তাদের চেয়ে অনেক অনেক ভালো আছি।
তৎকালীন হিন্দুনেতৃত্বের অতিরিক্ত স্বার্থপরতার কারনেই হোক আর ভুল পলিসির জন্যই হোক মুসলিমলীগের মুল দাবী হয়ে গেলো পাকিস্থান নামক দেশ। তারা সফল হলো । যদিও তারা তাদের সাফল্য ধরে রাখতে পারলনা । পাকিস্থান দ্বিখণ্ডীত হয়ে গেলো । সেটা আর একটা আলোচনা ।
ভারত মাত্র ৬৫০/৭০০ কোটি টাকা খরচ করে চাঁদে চলে গেছে। সুতরাং তারা উন্নতি করেছে। অর্থনীতিতে তারা বর্তমানে ৫-ম হলেও কিছুদিনের মধ্যে তারা যে তৃতীয় রাষ্টে পরিণত হবে , সে ব্যাপারেও কোন সন্দেহ নেই।
সবকিছুর মুলে আছে তাদের দেশপ্রেম , প্রতিবেশী রা্ষ্ট্রগুলোর সংগে চাণক্য বা আধুনিক ম্যাকেয়াভেলীর থিওরিতে পররাষ্ট্রনীতি মেইনটেইন করা , অখণ্ডতা বজায় রাখতে যে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা । হয়তো সবকিছুতে তারা সফল হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্থানে বসবাসকারী সনাতন সম্প্রদায়ের । যারা প্রায় ঐদেশে নিঃশেষ হয়ে গেছে। তারা সবাই দেশত্যাগ করেছে এরকম নয় । তারা বাধ্য হয়ে ধর্মান্তরিত হয়েছে অথবা দাংগায় মারা গেছে । কারণ বেশীর ভাগ লোক বলবে , মুসলমানরা অত্যাচার করছে। কিন্তু ঘটনার ভেতরে গেলে দেখা যাবে , ভারতে আগ্রাসী নীতির কারনে মানুষগুলোর রাগ গিয়ে পরেছে ধর্মীয় ভাবে সংখ্যালঘু সনাতন সম্প্রাদায়ের উপর । কারন সনাতন সম্প্রদায় আবার ভারতে সংখ্যাগুরু । সেই লোকগুলোকে নিরাপদে রাখার জন্য তারা ( ভারত ) এমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি , বা এমন কোন ছাড় দেয়নি , যার কারণে তারা ( সনাতন সম্প্রদায় ) নিজেদের নিরাপদ মনে করবে। স্বাধিনতা পেয়ে ভারত বেমালুল ভুলে গেছে এই মানুষগুলো কথা । যাদের আত্মীয় স্বজনদের রক্তের বিনিময়ে আজকের ভারত ।
নেপালে তাদের পররাষ্ট্রনীতি বার্থ্য হয়েছে । শ্রীলংকাতে হয়েছে। মালদ্বীপে হলো । বাংলাদেশেও ভারতীয় পণ্য বর্জনের একটা প্রবণতা তৈরী হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি যদি বাংলাদেশে কোন দিন ব্যার্থ হয় তবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হবে এদেশে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ। কারণ ঐ একটাই , এদেশের সে মানুষগুলি ধর্মীয় ভাবে সংখ্যালঘু সেই সম্প্রদায় ভারতে সংখ্যাগুরু। যদিও এদেশের মানুষ বারে বারে প্রমান করে , তারা কনজারভেটিভ নয় , তারা মোডারেটেড । তার বড় প্রমাণ পংকজ দাদা ইলেকশানে জিতে আসা , প্রয়াত শ্রদ্ধেয় সুরঞ্জিত সেনের স্ত্রী নির্বাচনে জিতে আসা , মহাদেরপুর বদলগাছি এলাকার মানুষ মনের আনন্দে একজন প্রথম সনাতন সম্প্রদায়ের এম পি পদপ্রার্থীকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করা । কারণ এই আসনের রানিং যিনি এম পি ছিলেন তিনি একসময় রানিং নৌকা প্রতীক পাওয়া রানিং এম পি সাহেবকে বিদ্রোহী হয়ে হারিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি এলাকায় কাজও করেছেন আবার তিনিও আজন্ম আওয়ামীলীগ ।

Comments

Popular posts from this blog

শ্রী শ্রী গীতা সহায়িকা (প্রথম অধ্যায়)

শ্রী শ্রী গীতা সহায়িকা ( দশম অধ্যায় )

অকালবোধন ও রাজা রামচন্দ্র