মানুষ শ্রী কৃষ্ণ
মজার ব্যাপার হলো শ্রী কৃষ্ণের মথুরাকে আমাদের তথা মগধের রাজা জরাসন্ধ অনেক অনেক বার দখল করার জন্য আক্রমন করেছিলেন । সেই হিসাবে আমরা শ্রী কৃষ্ণের শত্রুপক্ষ দেশের প্রজা । আমরা বার বার মথুরা আক্রমন করেছি , কথিত আছে ১৭/১৮ বার । কোন বার আমরা জিততে পারিনি , তবে আমাদের প্রবল আক্রমনে মথুরা পর্যুদস্ত হয়েছিলো । তাদের অনেক সৈন্য ও প্রজার জীবন চলে গিয়েছিলো । মথুরা যেহেতু সমতল ভূমী ছিলো তাই জরাসন্ধ তথা আমাদের আক্রমন করতে সুবিধা হতো । আর জরাসন্ধ ছিলেন অত্যন্ত প্রতাপশালী রাজা ও তার রাজ্য ছিলো অত্যন্ত ব্যাপক । যেহেতু শ্রী কৃষ্ণ নিজেই ভগবান , সেইহেতু তিনি জরাসন্ধ কে বধ করতেই পারতেন । কিন্তু ঘটনাটা ঐরকম ছিলো না ।
মথুরা মানুষ তাদের রাজাকে তথা উগ্রসেনকে খুব ভালোবাসতেন । তারা ছিলেন দেশপ্রেমিক । রাজ্যের জন্য তারা জীবন দিতে কোন রকম দ্বিধা করতেন না । কিন্তু এত প্রজার মৃত্যু , এত ধ্বংস যা শ্রী কৃষ্ণ মেনে নিতে পারেননি । প্রজার জান মালের নিশ্চয়তা প্রদান করাও নেতার একটা প্রধান দায়িত্ব । তাই তিনি তাঁর প্রজাদের মথুরা থেকে গুজরাতের দ্বারকাতে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থ্যা করেছিলেন । সেখানে উগ্রসেনের নেতৃত্বে শাসন ব্যাবস্থা চালু করেছিলেন । কারণ কংসের মৃত্যুর পর জরাসন্ধ আরও ক্ষিপ্র হয়ে উঠেছিলেন । কারণ কংস ছিলেন তার জামাতা ।
এই যে শুধু যুদ্ধ জয় নয় , রাজ্যের অভ্যন্তরের প্রজার জানমালের নিশ্চয়তা প্রদান করা , সেটাওতো নেতার কর্তব্য । আমাদের নেতারা কি সেই কর্তব্য পালন করে ? তারা কি প্রজাদের কথা চিন্তা করে ? কিন্তু এই চিন্তা করাটা শ্রী কৃষ্ণের কাছে শিখতে হবে। আমাদের প্রতিবেশী ধর্মেও এরকম অনেক ঘটনা আছে যা আমরা জানি কিন্তু সুশিক্ষা গ্রহণ করিনা ।
পৃথিবীতে যত মহামানব আমরা দেখেছি তারা অপরের জন্যই কাজ করে গেছেন । নিজের জন্য করেন নাই বলে তাঁরা মানুষের কাছে শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন । যেমন শ্রী কৃষ্ণ । এত যুদ্ধ এত জয় এত বুদ্ধির প্রয়োগ , এত কিছুর করে শ্রী কৃষ্ণের ব্যাক্তিগত কি লাভ হয়েছে ? এই যে মহাভারতের যুদ্ধে উনি ( আমাদের দেখার চোখে মনে হয়েছে ) মাঝে মাঝে ই কুট বুদ্ধি প্রয়োগ করেছেন , কিন্তু কেন ? কি উদ্দেশ্যে ? একটু ভেতরে গেলে দেখা যায় , উনি এগুলো করেছিলেন , মানুষের কল্যানের উদ্দেশ্যে । ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে ।
দার্শনিক আল্লামা ইমাম গাযযালী (রাঃ) লিখেছেন, ‘মানুষের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়ের নাম ‘চোখ’। চোখের ও কয়েকটি দোষ আছে। যেমন চোখ দূরে দেখে না, এক ইঞ্চি পরিমাণ চোখের কাছে কিছু বস্তু নিয়ে আসলে তাও দেখে না, চোখ কোন বস্তুর বাইরে দেখে, ভিতরে দেখে না, চোখ অনেক কিছু দেখে কিছু চোখ-চোখকে নিজে দেখে না। চোখ যা দেখে তা সত্য দেখে না। চোখে কাছে মনে হয় সূর্য আঁকার থালার সমান, কিন্তু অন্তরের চোখ বলে, পৃথিবী হতে সূর্য্যরে আঁকার তের লক্ষ গুণ বড়। তাই তিনি বলেছেন, সব কিছু অন্তরের চোখ দিয়ে দেখতে। অন্তরের চোখ দিয়ে যারা দেখেন তারাই দার্শনিক। আমাদের দেখতে হবে অন্তরের চোখ দিয়ে ।
চলবে

Comments
Post a Comment